আসাদুল্লাহ সা’দ

জীবনের পেছনে ফেল আসা প্রতিটি ক্ষণ যেন নীরব এক দূত অবিরাম জানিয়ে যায়: একদিন দাঁড়াতেই হবে তোমাকে মৃত্যুর দুয়ারে, চরম বাস্তবতার মুখোমুখি।
আর কত উদাস ভঙ্গিতে ছুটে চলবে তুমি, বাতুল মানুষের মতো?
ফিরে এসো এবার আপন রবের দিকে।
ফিরে এসো সেই পথে, যেখানে শান্তি আছে, অনন্ত আশ্রয় আছে, ক্ষমার শিশির আছে।
কিন্তু হৃদয় কি সত্যিই শুনেছে সেই আহ্বান?
পাহাড়সম পাপের ভেতর থেকে মুছে ফেলতে পেরেছে কি একবিন্দু কালিমাও?
জেগে উঠেছে কি অন্তরের সেই সত্যসন্ধানী পাখি, যে একদিন আকাশের ওপারে উড়ে যেতে চায়?
দিন বদলায়। ঋতু বদলায়।
একদিন আয়নার ভেতর মৃত্যুর গোপন চিহ্ন ফুটে ওঠে
চুলের শুভ্রতায়, দাঁড়ির নীরব সাদায়।
সময় তখন দৃঢ় কণ্ঠে বলে ওঠে:
“শোনো, মৃত্যুঘণ্টা ধীরে ধীরে বেজে উঠছে।”
তবু বোধ জাগে না।
ঘুম কাটে না।
উদাস সময়ের মায়া শেষ হয় না।
জেগে ওঠার কথা তখনও মনে পড়ে না মানুষের।
এভাবেই সময় তার পালা বদলায়।
একদিন রিক্ত হাতে ঢলে পড়তে হয় মৃত্যুর কোলে।
শূন্য আমলনামা বুকে নিয়ে দাঁড়াতে হয় মহান প্রভুর দরবারে।
এত সতর্কবার্তা, এত ইশারা
কিছুই আমাকে সতর্ক করতে পারলো না।
দুনিয়ার সামান্য মোহ জড়িয়ে রেখেছিল চারদিক।
মিথ্যে রঙিন স্বপ্নেরা আমাকে বিভোর করে রেখেছিল দীর্ঘকাল।
আজ সেই মোহ কোথায়?
কোথায় সেই উজ্জ্বল প্রলোভনের মেলা?
সবই তো ঝরে গেছে সন্ধ্যার শেষ পাখির ডানার শব্দের মতো
রয়ে গেছে শুধু এক গভীর নীরবতা,
আর কবরের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়া মানুষের পদধ্বনি।

আপনার ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে যোগাযোগ করুন

আপনার মন্তব্য জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.