সুমাইয়া উম্মে হিসান
মাঝেমধ্যে ‘ইসলাম কি নারীবিদ্বেষী?’—এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে এবং আরও কিছু ঘটনার সূত্রে আমি নিজেকেই প্রশ্ন করলাম—ইসলামের ইতিহাসে নারী আলেম ও মনীষীদের নাম কি আমি বলতে পারি? উম্মুল মুমিনীনদের বাইরে আশ্চর্যজনকভাবে আর কোনো নামই আমার মনে এলো না। পরে কয়েকজনের কাছে জানতে গিয়ে দেখলাম, এই অজ্ঞতার জায়গায় আমি একা নই; অনেকেই একই অবস্থায় আছেন।
তাহলে সেই নারীরা কোথায়?
সত্য হলো, ইসলামী জ্ঞানচর্চায় নারীদের যে সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার, তা যেন বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে গেছে; মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে আজও এ ইতিহাসের বড় একটি অংশ অজানা।
ইবনু হাজার তাঁর দুরারুল কারিমাহ গ্রন্থে প্রায় ১৭০ জন নারী মনীষীর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ গ্রন্থে উল্লিখিত ১২,০৪৩ জন বিশিষ্ট সাহাবির মধ্যে ১,৫৫১ জনই ছিলেন নারী। তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেমদের তালিকাতেও তিনি প্রায় ১,৩০০ জন নারী-কে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এমনকি ইবনু হাজার নিজেই ৫৩ জন নারী শিক্ষকের কাছে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। ইমাম সাখাওয়ী ৬৮ জন নারী আলেমের কাছ থেকে ইজাযত লাভ করেন, আর ৩৩ জন নারী ইমাম সুয়ূতীকে শিক্ষা দিয়েছেন।[১]
কারিমা আল-মারওয়াজিয়্যা
কারিমা আল-মারওয়াজিয়্যা (মৃ. ৪৬৩ হি./১০৭৩ খ্রি.) তাঁর যুগে সহিহ আল-বুখারির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হতেন। তাঁর পাণ্ডিত্য এতটাই স্বীকৃত ছিল যে, তৎকালীন বিশিষ্ট আলেম আবু যার আল-হারাবি তাঁর ছাত্রদের কারিমা আল-মারওয়াজিয়্যার কাছ থেকেই সহিহ অধ্যয়নের নির্দেশ দিতেন।
গোল্ডজিহার লিখেছেন, “এই গ্রন্থের বর্ণনার ইজাযতসমূহে তাঁর নাম অসাধারণ ঘনঘন দেখা যায়।”[২] তাঁর ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন খতিব আল-বাগদাদী ও আল-হুমায়দীর মতো খ্যাতিমান মনীষী।
আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান
আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান। তিনি ছিলেন তাবেয়ী যুগের একজন বিশিষ্ট নারী আলেম এবং প্রখ্যাত সাহাবি আসআদ ইবনু জুরারাহ-এর নাতনি। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর সরাসরি জ্ঞানসূত্র ছিল। ফলে হাদিসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপিত হয়েছিল।
সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন:
“হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন তিনজন—আল-কাসিম ইবনু মুহাম্মদ, উরওয়া ইবনু যুবাইর এবং আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান।”
ইমাম যুহরির মতো মনীষী তাঁর ছাত্র ছিলেন। জ্ঞান ও দক্ষতায় তিনি তাঁর সময়ের বহু পুরুষ আলেমকেও অতিক্রম করেছিলেন।
ইমাম মালিকের মুয়াত্তা-য় বর্ণিত একটি ঘটনা তাঁর অসাধারণ প্রজ্ঞার সাক্ষ্য বহন করে। সে সময় মদিনার বিচারক আবু বকর ইবনু হাজম এক খ্রিস্টান চোরের হাত কাটার রায় দেন। ঘটনাটি আমরাহ জানতে পেরে তাঁর এক ছাত্রকে বিচারকের কাছে পাঠালেন। ছাত্রটি গিয়ে জানাল, আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান তাঁকে পাঠিয়েছেন এবং বিচারকের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। চুরি করা সম্পদের মূল্য এক দিনারের চেয়ে কম হওয়ায় হাত কাটার বিধান প্রযোজ্য হবে না।
বিচারক আবু বকর ইবনু হাজম আমরাহর বক্তব্য সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিলেন—এ বিষয়ে মদিনায় সে সময়ের সাতজন বিশিষ্ট ফকিহের কারও সঙ্গে পরামর্শ করারও প্রয়োজন বোধ করলেন না।
আমরাহর কাছে ছিল হাদিসের বহু দুর্লভ ও মূল্যবান সংকলন। উমর ইবনু আবদুল আজিজ আশঙ্কা করেছিলেন, জ্ঞান হারিয়ে যেতে পারে এবং আলেমরা একে একে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে পারেন। তাই তিনি তাঁর এসব হাদিস লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
ইবনু সাদের তাবাকাত-এ বর্ণিত হয়েছে:
“তাঁর কাছে হাদিসের এমন কিছু দুর্লভ সংকলন ছিল, যা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উমর ইবনু আবদুল আজিজ সেগুলোর অনুলিপি করিয়ে নিয়েছিলেন—যাতে জ্ঞান বিলুপ্ত না হয় এবং আলেমরা হারিয়ে না যান।”[৩]
এ উদ্দেশ্যেই তিনি আমরাহর ভাতিজা ও ছাত্র আবু বকর ইবনু মুহাম্মদ ইবনু আমর ইবনু হাজম-এর কাছে চিঠি লিখে তাঁর উদ্বেগের কথা জানান।

প্রখ্যাত নারী মুহাদ্দিস কারিমা আল-মারওয়াজিয়্যা (মৃ. ৪৬৩ হি.)-এর বর্ণনাসূত্রে সহিহ আল-বুখারি। তুরস্কের কারাচেলেবিজাদে গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি।
উম্মুদ্দারদা আল-কুবরা ছিলেন এমনই আরেক উজ্জ্বল রত্ন। তাঁর কাছে জ্ঞান অর্জন করেছেন খলিফা আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান-এর মতো শাসক ও মনীষীরাও। তিনি ছিলেন খায়রা বিনতে আবু হাদরাদ আল-আসলামিয়্যা, সাহাবি আবু দারদা (রা.)-এর স্ত্রী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার, জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান নারী। (আল-ইস্তিয়াব, ২/২৯৩)। ইমাম যাহাবিও তাযকিরাতুল হুফফাজ-এ তাঁর অনুরূপ গুণাবলির কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছ থেকে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি আবু দারদা, সালমান আল-ফারসি এবং উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাছ থেকেও হাদিস গ্রহণ করেন। বহু তাবেয়ী তাঁর কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। (তাযকিরাতুল হুফফাজ, ১/৫০; আল-ইস্তিয়াব, ২/২৯২)।[৪]
নারী শিক্ষকের কাছে জ্ঞানার্জন
ইবনু আরাবির মতো মহান মনীষীরাও নারী আলেমদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর শিক্ষকদের একজন ছিলেন কর্ডোবার ফাতিমা বিনতে আল-মুসান্না—দ্বাদশ শতাব্দীর একজন সুফি সাধিকা। পরবর্তীকালে ইবনু আরাবি তাঁকে তাঁর আধ্যাত্মিক জননী হিসেবে অভিহিত করেন। ইবনু আরাবি ছিলেন তাঁর অত্যন্ত প্রিয় ছাত্রদের একজন।
ইতিহাসের এসব দৃষ্টান্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সে যুগে নারী ও পুরুষ—উভয়কেই শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করা ছিল স্বাভাবিক বিষয়। জ্ঞান ও শিক্ষার সন্ধানে তাঁরা লিঙ্গভেদকে কোনো বাধা হিসেবে দেখতেন না। আর তাঁরা এমনটি করতে পেরেছিলেন, কারণ জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি তাঁদের আধ্যাত্মিক মর্যাদাও ছিল অত্যন্ত উচ্চ।
অর্থাৎ তাঁদের ধর্মচেতনা ছিল প্রাণহীন আনুষ্ঠানিকতায় আবদ্ধ নয়। তাঁরা ধর্মের বাহ্যিক বিধিবিধান আঁকড়ে ধরে তার অন্তর্নিহিত প্রেক্ষাপট ও মর্মকে উপেক্ষা করতেন না; বরং ধর্মীয় জ্ঞানকে গভীর উপলব্ধি, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে ধারণ করতেন।
কোনো বিশেষ সুবিধাই কি তাঁদের মনীষী বানিয়েছিল?
কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এসব নারী হয়তো এমন কিছু বিশেষ সামাজিক বা পারিবারিক সুবিধা পেয়েছিলেন, যা তাঁদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে বিকশিত হতে সাহায্য করেছিল এবং তাঁদের পুরুষ সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এই নারী মনীষীদের সামাজিক ও পারিবারিক পটভূমি ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।
যেমন, আবিদা আল-মাদানিয়্যা ছিলেন মুহাম্মদ ইবনু ইয়াজিদের একজন দাসী। হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার পথে থাকা অবস্থায় তাঁকে স্পেনীয় মুহাদ্দিস হাবিব দাহহুনের কাছে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। তাঁর অসাধারণ জ্ঞান ও পাণ্ডিত্য দেখে হাবিব তাঁকে মুক্ত করে দেন, পরে তাঁকে বিবাহ করেন এবং সঙ্গে করে আন্দালুসিয়ায় নিয়ে যান। তিনি মালিক ইবনু আনাস-এর মতো বিশিষ্ট আলেমদের সূত্রে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর নাতনি আবদা বিনতে বিশর-ও ছিলেন একজন বিদুষী।
দাসী শ্রেণির মধ্যেও এমন বহু নারী আলেম ছিলেন—যেমন মুনাইয়্যা আল-কাতিবা, জাবরাহ ও তাব আল-জামান প্রমুখ।
অন্যদিকে জায়নাব বিনতে সুলাইমান ছিলেন রাজপরিবারের সদস্য, একজন রাজকন্যা। তাঁর পিতা ছিলেন আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা আস-সাফফাহর চাচাতো ভাই। ফলে বোঝা যায়, তাঁদের সামাজিক বা আর্থিক পটভূমি তাঁদের জ্ঞানসাধনার একমাত্র কিংবা প্রধান নির্ধারক ছিল না।
নারী আলেমদের বিস্মৃত ইতিহাস
মাওলানা কাজী আথার মুবারকপুরী তাঁর ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নারী আলেমদের অবদান গ্রন্থে হাদিস, ফিকহ, গণিত, রাজনীতি ও রাজ্যশাসন, সাহিত্যসহ জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারী মনীষীদের বিস্তৃত পরিচয় তুলে ধরেছেন। তাঁর আলোচনায় এমন নারীদেরও স্থান পেয়েছে, যারা নিজেদের রাজ্য ও সমাজে পরিবর্তনের সূচনা করেছিলেন; এমনকি এমন নারীদেরও, যারা দাসী হয়েও জ্ঞানচর্চায় অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এবং বহু আলেমকে গড়ে তুলেছিলেন।
বিশিষ্ট ইসলামি গবেষক ও ক্যামব্রিজ ইসলামিক কলেজের ডিন ড. মুহাম্মদ আকরাম নদভী নারী আলেমদের জীবনী নিয়ে আল-মুহাদ্দিসাত নামে একটি সুবৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা প্রায় ৪০–৫০ খণ্ডে বিস্তৃত। গবেষণার শুরুতে তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো অল্পসংখ্যক নারী আলেমের সন্ধানই পাওয়া যাবে। কিন্তু গবেষণা যত এগোতে থাকে, ততই তিনি মুসলিম নারীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক জ্ঞানী ও বিদুষী নারীর সন্ধান পান। শেষ পর্যন্ত তাঁর গবেষণাকে কেবল নারী মুহাদ্দিসদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হয়।
ফলাফল ছিল বিস্ময়কর—প্রায় ১০,০০০ নারী আলেমের জীবনী নিয়ে তাঁর গবেষণা ৪০–৫০ খণ্ডের এক সুবিশাল রূপ ধারণ করে।
এই উত্তরাধিকার পুনরুদ্ধার জরুরি
ইসলামের ইতিহাসের অধিকাংশ মহান আলেমের জীবন পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে পিতার চেয়ে মায়ের ভূমিকা ছিল অধিক গভীর ও কার্যকর।
নারীরা একক ব্যক্তি হিসেবে যেমন, তেমনি সম্মিলিতভাবেও ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, উজবেকিস্তানের ওতিনারা ছিলেন নারী আলেম ও শিক্ষিকাদের একটি ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়। তাঁরা বিশ্বাস ও ধর্মীয় সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। সোভিয়েত শাসনের নীতিমালা যখন ইসলামি চর্চাকে কঠোরভাবে বাধাগ্রস্ত করেছিল, তখনও তাঁরাই ইসলামের জ্ঞান ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁরা শৈশব থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতেন। বিশ বছর বয়সে তাঁরা কঠোর ধারাবাহিক পাঠ ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন এবং চল্লিশ বছর বয়সে শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতেন। এভাবেই নারী শিক্ষকদের এই ব্যবস্থা নিষিদ্ধ গ্রন্থ, ঐতিহ্যগত জ্ঞান ও নৈতিক কর্তৃত্বকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংরক্ষণ করে রেখেছিল।[৫]
একইভাবে ইন্দোনেশিয়ার আয়সিয়াহ সংগঠনটি ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মুহাম্মদিয়া আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নারী শাখা হিসেবে গড়ে ওঠে। নারীদের শিক্ষিত করা, সামাজিক পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং ইসলামের পথে ডাচ ঔপনিবেশিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য।
পঞ্চদশ শতকের চীনের জিংশাওরা—নারী শিক্ষক ও জ্ঞানচর্চাকারীরা—চিং রাজবংশের সময় ইসলামী জ্ঞান সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
নিঃসন্দেহে, ইসলামের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে নারীরা বরাবরই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন—কখনো জ্ঞানের বাহক হিসেবে, কখনো অর্জনকারী হিসেবে, কখনো পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এবং কখনো জ্ঞান ও জ্ঞানীদের লালনকারী হিসেবে।
আমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে মুসলিম নারীদের এমন এক সমৃদ্ধ ও গৌরবময় উত্তরাধিকার রয়েছে, যার উত্তরাধিকারী হওয়ার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ তাঁদের হাত ধরেই ইসলামের জ্ঞান, সত্য ও ঐতিহ্যের বহু অমূল্য রত্ন আমাদের কাছে পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র
১. জয়নব আলিয়া, Great Women in Islamic History: A Forgotten Legacy, Young Muslim Digest।
২. গোল্ডজিহার, Muslim Studies, খণ্ড ২, পৃ. ৩৬৬। লেখক উল্লেখ করেছেন: “বুখারির মূল পাঠের বর্ণনাসূত্রের দীর্ঘ শৃঙ্খলে মধ্যবর্তী সূত্র হিসেবে কারিমা আল-মারওয়াজিয়্যার নাম পাওয়া অত্যন্ত সাধারণ বিষয়।” (ঐ.)। আরও দেখুন: ইয়াকুত, Mu‘jam al-Udabā’, খণ্ড ১, পৃ. ২৪৭; এবং COPL, খণ্ড ৫, প্রথম অংশ, পৃ. ৯৮ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা।
৩. মাওলানা কাজী আতহার মুবারকপুরী, Achievements of Muslim Women in the Religious and Scholarly Fields।
৪. মাওলানা কাজী আতহার মুবারকপুরী, Achievements of Muslim Women in the Religious and Scholarly Fields।
৫. Fathi, H. (1997), “Otines: The Unknown Women Clerics of Central Asian Islam,” Central Asian Survey, 16(1), পৃ. ২৭–৪৩।