মূল : মাওলানা আবদুল মাজিদ দরিয়াবাদী রহ.
এক. মানুষ গড়ার কারিগর
পঞ্চাশ বছর! হ্যাঁ, পুরো পঞ্চাশ বছর তাও আবার হিজরি নয়, খ্রিস্টাব্দের হিসেবে; চন্দ্রবর্ষ নয়, সৌরবর্ষের হিসেবে এক অর্ধশতাব্দী। সময়ের এই দীর্ঘ পরিক্রমা নীরবে অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। শিশুরা বৃদ্ধ হয়েছে, তরুণেরা নাতি-নাতনির মুখ দেখেছে আর যাদের দেহ একদিন ছিল সোজা ও বলিষ্ঠ, আজ তারা বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়েছে।
পঞ্জিকা ও ইতিহাসের পাতা উল্টালে এ-ই হিসাবই মেলে। কিন্তু স্মৃতির গভীরে ডুব দিলে মনে হয়, যেন সবকিছু ঘটেছিল সেদিনই। মনে হয়, বছর দুয়েক আগের কথা মাত্র। যেন গতরাতের স্বপ্ন।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে দারুল মুসান্নিফীনের নকশা তৈরি হচ্ছে; এর কর্মপদ্ধতি নির্ধারিত হচ্ছে; দেশজুড়ে খুঁজে খুঁজে পরিচালনা পরিষদের সদস্য নির্বাচন করা হচ্ছে; উদ্যমী ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণদের আহ্বান জানানো হচ্ছে। গবেষণা ও রচনার এক নতুন প্রতিষ্ঠান আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জ্ঞানচর্চা, অনুসন্ধান ও লেখালেখির এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।
এই নবযাত্রার অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে আছেন আল্লামা সাইয়িদ সুলাইমান নদবি। গবেষণা, সম্পাদনা, সংগঠন এবং প্রকাশনার সমগ্র দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। তাঁরই পাশে নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধা মাওলানা মাসউদ আলী নদবি যিনি সাহিত্যজগতে যেন একজন সেনাপতির মতো কর্মপ্রাণ ও সাহসী।
কী দুর্লভ ছিল সেই সময়! কী অসাধারণ ছিল সেই মানুষগুলো! কী প্রবল ছিল তাদের আবেগ, কী অদম্য ছিল তাদের সাহস, কী সুদূরপ্রসারী ছিল তাদের স্বপ্ন! আর সর্বোপরি, তাদের অন্তর পরিপূর্ণ ছিল একটি মহান ব্রতের প্রতি অবিচল নিষ্ঠায় জ্ঞান ও জাতির সেবায় আত্মনিবেদন।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই আগুন কে জ্বালিয়েছিলেন? এই আলোর মশাল কে প্রজ্বলিত করেছিলেন?
তিনি ছিলেন এক প্রবীণ মহাপুরুষ, যাঁর বয়স তখনো ষাটও পূর্ণ হয়নি; অথচ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্বের মাহাত্ম্যে তিনি সবার কাছে ‘বড় মিয়াঁ’ হয়ে উঠেছিলেন। যৌবনের পূর্ণ শক্তি তখনও তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। ইতোমধ্যেই তিনি সমগ্র দেশে নিজের বৌদ্ধিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মানুষ তাঁকে ‘আল্লামা’ নামে চিনত। তাঁর সম্পাদিত ‘মাআরিফ’ পত্রিকা জ্ঞান ও চিন্তার আলোয় অসংখ্য মনকে আলোকিত করেছিল।
তাই আসুন, অল্প কিছু সময় নিয়ে এই আলোকপুরুষের জীবনকথার কিছু পৃষ্ঠা উল্টে দেখি তাঁর ব্যক্তিত্বের কিছু দিক, তাঁর কর্মময় জীবনের কিছু অধ্যায় এবং তাঁর সেই অসমাপ্ত অথচ মহিমান্বিত স্বপ্নের কিছু ঝলক।
দুই. অসাধারণ ব্যক্তিত্ব
আমার চেতনার দুয়ার যখন মাত্র উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে, তখনই মাওলানা শিবলী নোমানির নাম আমার কানে আসে। প্রথমে তাঁর নাম শুনেছি, পরে তাঁর রচনা পড়েছি। ধীরে ধীরে অনুভব করেছি—তিনি কেবল একজন পণ্ডিত নন; তিনি ইতিহাসের এক অসামান্য ব্যাখ্যাতা, সাহিত্য-সমালোচক, চিন্তাবিদ এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার এক অনন্য পথিকৃৎ।
স্কুলজীবনেই তাঁর ‘আল-কালাম’, ‘আল-ফারুক’, ‘সিরাতুন নবী’ এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক প্রবন্ধ পড়ার সুযোগ হয়। তাঁর লেখনী আমার সামনে জ্ঞানের এক নতুন জগৎ উন্মোচন করে। ঈমান, রিসালাত, অলৌকিকতা, আখিরাত, ইসলামের ইতিহাস সবকিছুই তাঁর কলমে নতুন প্রাণ পেয়েছিল। তখনই তাঁর প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা ও আকর্ষণ জন্ম নেয়।
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লখনউয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়। সেখানেই প্রথমবার তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। প্রথম সাক্ষাতে ভীষণ সংকোচে ছিলাম। তিনি প্রশ্ন করছিলেন, আর আমি তোতলাতে তোতলাতে উত্তর দিচ্ছিলাম। কিন্তু সেই সাক্ষাতের পর তাঁর দরজা আমার জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেল। প্রথমে মাঝেমধ্যে, পরে প্রায় প্রতিদিনই তাঁর কাছে যাওয়া শুরু করলাম। কখনো একা, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে। বিকেল ছিল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়। বিকেল হলেই যেন অদৃশ্য এক টানে তাঁর দরজার দিকে পা বাড়িয়ে দিতাম।
জ্ঞান, সাহিত্য, ইতিহাস, কবিতা কোনো বিষয়ই তাঁর আলোচনার বাইরে ছিল না। তাঁর সান্নিধ্যে বসে মনে হতো, যেন একটি সচল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বসে আছি।
একসময় পাশ্চাত্য চিন্তার প্রভাবে আমার মনে সংশয়ের ঝড় উঠেছিল। ধর্ম সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল। এমনকি কিছুদিন ধর্ম থেকে মানসিক দূরত্বও তৈরি হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই পরিবর্তনের মধ্যেও তাঁর কাছে যাওয়া বন্ধ করিনি। তিনিও আমার প্রতি স্নেহ ও আন্তরিকতায় কোনো ভাটা পড়তে দেননি। আমার অন্তর্দ্বন্দ্ব তিনি বুঝতেন, কিন্তু কখনো তিরস্কার নয়; বরং ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও স্নেহ দিয়ে আমাকে পথ দেখানোর চেষ্টা করতেন।
তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত সাদাসিধে। আহারে অল্প, প্রয়োজনেও অল্প। অধিকাংশ সময়ই বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকতেন। গ্রন্থই ছিল তাঁর প্রকৃত সঙ্গী। একবার যদি কোনো গ্রন্থাগারে প্রবেশ করতেন, তবে বাইরের জগতের কথা যেন ভুলেই যেতেন। অধ্যয়ন ছিল তাঁর কাছে জীবনধারা।
তবে তিনি ছিলেন একইসঙ্গে চিন্তাশীল; এবং অত্যন্ত সংবেদনশীলও। সামান্য বিষয়েও আনন্দে আপ্লুত হতেন, আবার দুঃখজনক সংবাদে গভীরভাবে মর্মাহত হতেন। প্রিয়জনের মৃত্যু বা মুসলিম সমাজের কোনো দুর্দশার কথা উঠলেই তাঁর চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠত।
রসবোধও তাঁর ব্যক্তিত্বের একটি উজ্জ্বল দিক ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে হাস্যরস, কবিতার সংশোধন কিংবা ভাষার সূক্ষ্ম সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর মন্তব্য সবই ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণবন্ত। কারও ভালো পরামর্শ গ্রহণ করতে তিনি কখনো সংকোচবোধ করতেন না। সত্য ও সৌন্দর্য যেখানে পেতেন, সেখান থেকেই গ্রহণ করতেন।
ধর্মীয় মর্যাদা ও মুসলিম সমাজের সম্মানের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। ইসলাম কিংবা মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ আক্রমণ তিনি কখনো নীরবে সহ্য করতেন না। যুক্তি, জ্ঞান ও লেখনীর শক্তি দিয়ে তার জবাব দিতেন।
তাঁর সমগ্র জীবন ছিল জ্ঞানসাধনার জীবন। বই ছিল তাঁর খাদ্য, অধ্যয়ন ছিল তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস। কিন্তু সেই জ্ঞান নিছক তথ্যের সঞ্চয় ছিল না; ছিল চরিত্র গঠন, চিন্তার শুদ্ধি এবং জাতির পুনর্জাগরণের হাতিয়ার। তাঁর সংস্পর্শে যারা এসেছেন, তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে তাঁর সেই জ্ঞানপিপাসা, কর্মনিষ্ঠা ও আদর্শচেতনার দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।
তিন. লেখক শিবলী নোমানি
তাঁর ব্যক্তিত্বের কিছু আভাস-ইঙ্গিত আপনারা ইতোমধ্যে অবলোকন করেছেন; এবার চলুন তাঁর লেখকসত্তার প্রতি একবার সংক্ষিপ্ত ও সামান্য দৃষ্টিপাত করা যাক। মাওলানা তাঁর নিজ অবস্থানে অত্যন্ত সুদক্ষ বক্তা ছিলেন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় খতীব ও মুকাররিরদের মধ্যে তাঁর নাম উচ্চ মর্যাদায় উচ্চারিত হতো। কিন্তু বাকপটুতা তাঁর প্রকৃত প্রতিভার মূল সত্তা ছিল না; বরং তাঁর আসল গুণ নিহিত ছিল তাঁর অসাধারণ লেখনীশক্তিতে।
তাঁর এই সর্বজনবিদিত মহিমার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে তাঁর সাহিত্যিক অবদানের ওপর। উর্দু সাহিত্যে বহু ধরনের প্রতিভাবান লেখকের আবির্ভাব ঘটেছে—কেউ ইতিহাস রচনায় খ্যাতি অর্জন করেছেন, কেউ সাহিত্যের জগতে জাদু সৃষ্টি করেছেন, কেউ ধর্মীয় জ্ঞানচর্চায় কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন, আবার কেউ গল্প-কাহিনীর মাধ্যমে পাঠককে আকৃষ্ট করেছেন।
কিন্তু শিবলীর অবদান এসবের মধ্যে একক ও অনন্য। ইতিহাস, সাহিত্য, কবিতা, সমালোচনা—সব ক্ষেত্রেই তিনি সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। তাঁর রচনাশৈলী কখনও ছোট প্রবন্ধ, কখনও বৃহৎ গ্রন্থের আকারে প্রকাশিত হলেও প্রত্যেকটি রচনা তাঁর বিষয়বস্তুর গভীরতা ও চিন্তার বিস্তৃতি দ্বারা স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে।
তিনি একদিকে ছিলেন নৈসর্গিক কবি-মননের অধিকারী, অন্যদিকে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ঐতিহাসিক ও চিন্তাবিদ। তাঁর রচনাবলিতে কখনও দেখা যায় কবিতার সৌন্দর্য, কখনও দার্শনিক গভীরতা, আবার কখনও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের কঠোর বাস্তবতা।
তাঁর রচনাসমূহের পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, সমালোচনামূলক রচনা এবং দীর্ঘ গবেষণাধর্মী গ্রন্থ nসবই তাঁর সাহিত্যিক ভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি সমকালীন বহু পণ্ডিত ও লেখকের সঙ্গে তাঁর চিঠিপত্রও তাঁর চিন্তার গভীরতার সাক্ষ্য বহন করে।
তাঁর সমগ্র সাহিত্যকর্মকে বিচার করলে দেখা যায়, কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর মান নিম্নগামী হয়নি; বরং সর্বত্রই উৎকর্ষ ও নৈপুণ্যের ছাপ বিদ্যমান। তাঁর সাহিত্যিক জগৎ যেন বহু দিগন্তে বিস্তৃত এক সুবিশাল মহাসাগর, যেখানে প্রতিটি তরঙ্গেই চিন্তার দীপ্তি বিদ্যমান।
সাহিত্যিক দক্ষতা ও শৈলী
রচনাশৈলী তাঁর কাছে ছিল এক শিল্প (Art)। তাঁর রচনার নিজস্ব নিয়ম, শৃঙ্খলা ও নীতি ছিল। তিনি রণক্ষেত্র হোক বা সভা-মঞ্চ উভয় ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতার সাথে বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারতেন। শব্দচয়ন ও বাক্যগঠনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী।
তাঁর যুক্তি উপস্থাপন এমন সুসংহত ও প্রাঞ্জল যে পাঠক প্রথমেই প্রভাবিত হয়। চরিত্রচিত্রণে তিনি এমন দক্ষ যে পাঠক আবেগে আপ্লুত হয়, আবার কখনও তাঁর বর্ণনায় কল্পনার জগৎ উন্মোচিত হয়।
কবিতার ব্যাখ্যায় তিনি এমনভাবে বিশ্লেষণ উপস্থাপন করতেন, যা পাঠকের হৃদয়কে আন্দোলিত করত। যুদ্ধ ও সংঘাতের বর্ণনায় তাঁর লেখনী এমন প্রাণবন্ত যে পাঠকের মধ্যে সাহস ও উদ্দীপনা জাগ্রত হয়।
এই কারণে বলা যায়, তাঁর কলমে ছিল এক সর্বব্যাপী শক্তি ও বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি। খুব কম লেখকের মধ্যেই এমন সামগ্রিকতা ও গভীরতা পাওয়া যায়।
চার. লেখক গড়ার কারিগর
মাওলানা শিবলীর দিকে তাকালে প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে, তা শুধু তাঁর লেখা নয়—বরং তাঁর লেখা থেকে জন্ম নেওয়া এক বিস্তৃত চিন্তার জগৎ। তিনি যে শুধু একজন লেখক ছিলেন, তা নয়; তিনি ছিলেন লেখক গড়ার কারিগর, চিন্তার স্থপতি। তাঁর কলম যেমন ইতিহাস লিখেছে, তেমনি ইতিহাস লেখার যোগ্য মানুষও তৈরি করেছে।
উর্দু সাহিত্যের পরিসরে এমন বহু বড় নাম আছে, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীপ্তিমান। কেউ ইতিহাসের গভীরে আলো ফেলেছেন, কেউ সাহিত্যের ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছেন, কেউ ধর্মচিন্তার ব্যাখ্যায় নতুন দিগন্ত খুলেছেন। কিন্তু শিবলীর বৈশিষ্ট্য এখানে আলাদা তিনি শুধু রচনা করেননি, তিনি রচনার ধারাটাকেই জীবন্ত করে তুলেছেন।
তাঁর ছায়ার ভেতর দিয়ে একাধিক মনীষী গড়ে উঠেছেন। বিশেষ করে মাওলানা সাইয়িদ সুলায়মান নদবি—তিনি যেন শিবলীর চিন্তারই পরিণত রূপ, এক ধরনের বৌদ্ধিক উত্তরাধিকার। একই ধারায় মাওলানা আবদুস সালাম নদবি, মাওলানা আবদুল বারী নদবি, মাওলানা আমিন আহসান ইসলাহী, মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ খান গিলানি—এঁরা সবাই এক বৃহৎ চিন্তার আবহে বিকশিত নাম।
এই পরম্পরা কোনো সংকীর্ণ গণ্ডির ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। নদওয়া থেকে আলিগড়—বিভিন্ন জ্ঞানকেন্দ্রে শিবলীর প্রভাব এক ধরনের নীরব আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই আলো কখনো সরাসরি পথ দেখিয়েছে, কখনো দূর থেকে দিকনির্দেশ দিয়েছে।
শিবলীর প্রভাবের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হচ্ছে, তিনি অনুসারী তৈরি করেননি—তিনি চিন্তার প্রবাহ তৈরি করেছেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত মানুষজন েনহয়ে উঠেছিলেন একটি চলমান ঐতিহ্যের বাহক।
শিবলী এমন এক প্রদীপের নাম, যেখান থেকে অসংখ্য প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। কিন্তু আশ্চর্য এই—প্রতিটি আলো স্বতন্ত্র হলেও উৎসের সঙ্গে তার সম্পর্ক কপৃখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি।
তিনি একাধারে লেখক এবং লেখক গড়ার কারিগর এটাই তাঁর নান্দনিক ও বৌদ্ধিক মহিমা।
লেখক পরিচিতি : মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী (১৬ মার্চ ১৮৯২ – ৬ জানুয়ারি ১৯৭৭)। ভারতীয় বরেণ্য লেখক, চিন্তক ও দার্শনিক। হাকিমুল উম্মত মাওলানা শাহ আশরাফ আলী থানবি রহ.-এর ভাবশিষ্য।



