মাওলানা নূরুদ্দীন আহমদ রহ.
حامدا ومصياً
মুহতারাম ছদর ছাহেব, হজরত উলামায়ে কেরাম, মাশায়েখে ইছলাম এবং ধৰ্ম্ম ও সমাজ দরদী বন্ধুগণ!
পরম করুণাময় আল্লাহ-তায়ালা তদীয় বাণী
أَنَّ ٱلۡأَرۡضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ ٱلصَّٰلِحُونَ ﱨ
وَلَا تَهِنُواْ وَلَا تَحۡزَنُواْ وَأَنتُمُ ٱلۡأَعۡلَوۡنَ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ﲊ
এর মর্মানুযায়ী মুছলমানদিগকে প্রায় সম্পূর্ণ পৃথিবীর উপর প্রভাব ও রাজ্য বিস্তার করিবার সুযোগ দিয়াছিলেন। এইরূপে মুছলমানগণ সাতশত বৎসর পূর্ণভারতের উপর প্রবল প্রতাপে হুকুমৎ করিয়াছিলেন। কিন্তু যখন তাহারা ইছলাম ও মুছলমানী হইতে দূরে সরিয়া পড়িলেন, ইছলামের নীতি ও রছুলুল্লাহের অনুকরণকে এড়াইয়া চলিতে লাগিলেন এবং ইন্ছাফ ও খেদমতে খালকের পরিবর্তে বিলাসিতা ও আত্মম্ভরিতায় গা ভাসাইয়া দিতে লাগিলেন, তখন আল্লাহ তায়ালা প্রায় সারা পৃথিবীর রাজত্ব ও প্রতিপত্তি তাহাদের হাত হইতে কাড়িয়া লইয়া অমুছলমান জাতিগুলিকে তাহাদের উপর জয়ী করিয়া দিলন, মুছলমানেরা ক্রমে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হইয়া পড়িলেন।
এই প্রকারে ভারতের বাদশাহ জাতি মুছলমানগণ লজ্জাস্কর অবনতির মধ্যে একে একে প্রায় দুই শত বৎসর অতিবাহিত করিয়া দিলেন। ইহাদের চরম অবনতি দেখিয়া শত্রুগণও অশ্রু সম্বরণ করিতে পারিল না। অবশেষে ইহাদের অবনতি ও ঘোর দুর্দশা দেখিয়া আল্লাহ-তায়ালা দয়া প্রকাশ করিলেন। তাই তিনি মুছলমানদিগকে পুনরায় ভারতের এক অংশের প্রভুত্ব করিবার অধিকার দান করিলেন, ইহাই বর্তমানে পাকিস্তান নামে খ্যাত। মুছলিম লীগ, কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ওলামায়ে ইছলাম ও সহস্র সহস্র মুছলমানের কোরবানী ও প্রচেষ্টাই এই পাকিস্তান লাভের ওছিলা হইয়াছে।
এক্ষণে বর্তমান রাষ্ট্রনীতি ও শিক্ষার ধারার আমূল সংস্কার করিয়া, কোরআন ও ইছলামের ধারা এবং ইছলামী তা’লীম প্রবর্তন করিয়া ধর্ম ও সমাজ নীতির দিক দিয়া মুছলমানদিগকে খালেছ মুছলমান করিবার চেষ্টা করা, বরং তাঁহাদের অনুবর্তিগণের নৈতিক চরিত্রের ও মানসিক স্বভাবের উন্নতি করিয়া আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভের উপযুক্ত করিয়া তোলা রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য হইয়া পড়িয়াছে। এতদ্ব্যতীত সর্বত্র ইছলামের সৌন্দর্য্য ও মাহাত্ম্য প্রচার করাও আপনাদের ফরজ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। এই কর্তব্য যথারীতি পালন না করিলে কেয়ামতের দিনে আপনাদিগকে খোদার নিকট জওয়াবদেহী করিতে হইবে এবং রছুলুল্লাহকে ﷺ মুখ দেখাইবার উপায় থাকিবে না।
এই অত্যাবশ্যকীয় কারণে হেমায়েতে ইছলাম কর্তৃপক্ষ আপনাদিগকে এত দূরদারাজ ছফরের কষ্ট দিয়াও একটি সমবেত কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য এখানে ডাকিয়াছেন। ফুরফুরা শরীফের গদীনশীন পীর ছাহেব কেবলা হজরত মাওলানা শাহ্ আবদুল হাই ছিদ্দিকি ছাহেব এবং তদীয় মধ্যম ভ্রাতা হজরত মাওলানা শাহ আবু জাফর ছিদ্দিকী পীর ছাহেবের নিকট এই সম্মেলন আহ্বান করা সম্পর্কে পরামর্শ নিয়াছি। তাঁহারাও এইরূপ একটি সম্মেলনের আবশ্যকতা স্বীকার করিয়াছেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে এজাজত দান করিয়াছেন। এজন্য শোকরিয়া আদায় করিতেছি। আশা করি আপনারা এই মহান উদ্দেশ্য সফল করিবার জন্য পাকিস্তানের রাষ্ট্রনীতি ও শিক্ষানীতি বিষয়ে মতামত প্রকাশ করিবেন ও উহাকে কার্য্যে পরিণত করিয়া পাকিস্তানকে আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত করিতে পাকিস্তান সরকারকে সাহায্য ও ছোপারেশ করিবেন।
এ দীন ফকিরের ধারণা এই যে, এই মহান উদ্দেশ্যকে বাস্তব কার্য্যে পরিণত করিতে হইলে ওলামা, তোলাবা এমন কি সকল ধর্মভীরু মুছলমানদের মধ্যে বাকায়দা তাজিমের একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান যুগে খবরের কাগজেই কর্মপ্রেরণা দানের একমাত্র বাহন হইয়া দাঁড়াইয়াছে। এইজন্য হেমায়েতে ইছলাম, জমিয়তে ওলামা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে ইছলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষায় সাপ্তাহিক ও দৈনিক কাগজ চালনা করা ও ইহার পৃষ্ঠপোষক ও চালকগণকে সকল প্রকারে সাহায্য করা অত্যাবশ্যক হইয়া পড়িয়াছে। এই প্রসঙ্গে আমি হেমায়েতে ইছলামের পক্ষ হইতে স্বীকার করিতেছি যে, আপনারা সমবেতভাবে যে সকল উপযুক্ত প্রস্তাব পাশ করিবেন, ইনশা আল্লাহ হেমায়েতে ইছলাম তাহা প্রচার ও বাস্তব কার্য্যে পরিণত করিবার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করিবে।
অবশেষে, আপনারা আমাদের এই ক্ষুদ্র আহ্বানে সাড়া দিয়া কওমী খেদমতের যে জীবন্ত আদর্শ দেখাইয়াছেন, সে জন্য আমি এই সম্মেললের পক্ষ হইতে আপনাদিগকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাইতেছি। এতদসঙ্গে অভ্যর্থনা সমিতির পক্ষ হইতে আমি আপনাদের খেদমতে এই বলিয়া ওজর পেশ করিতেছি যে, আপনাদের মত মহান অতিথিবৃন্দের যথাযোগ্য অভ্যর্থনা আমাদের দ্বারা সম্ভব হয় নাই; বিশেষতঃ বর্ষার মওছুমে প্রকৃতির চাঞ্চল্যে আমরা আশানুরূপ আপনাদের খেদমৎ করিতে পারি নাই। আশা করি, আপনারা সমাজ-দরদী হিসাবে আমাদের এই সব অপরাধ মাফ করিবেন।


